• ৬ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Prime Minister

রাজ্য

চোখের চিকিৎসা করতে নেপালে আটকে পড়েছিলেন বর্ধমানের বাসিন্দা, সামাজিক মাধ্যমে আবেদন করতেই .....

বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত পরশি দেশ নেপাল। সরকার উপরে ফেলেছে ওই দেশের জনগণ। সেই দেশেই চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন বাংলার বাসিন্দা সৈয়দ আরজাদ হোসেন ও তাঁর মেয়ে কবিতা খাতুন। পূর্ব বর্ধমানের সরাইটিকর গ্রামের বাড়ি আরজাদের। কিন্তু কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সেই চিন্তায় আকূল হয়ে পড়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরেই সমস্যার সমাধান মেলে। ভারতীয় সেনা, দার্জিলিং এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় আরজাদ হোসেন ও তাঁর মেয়ে দেশে ফিরছেন। এখন দুশ্চিন্তা মুক্ত বর্ধমানের এই পরিবার। পরিবার সূত্রে খবর, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেয়ে কবিতাকে নিয়ে নেপালে যান আরজাদ হোসেন। পরের দিন তাঁরা চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান। তাঁরা যখন নেপালে গিয়েছিলেন তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে বাইরে বেরিয়ে তাঁরা হকচকিয়ে যান। গণ বিক্ষোভে আগুনে পুড়তে দেখেন পাহারী দেশকে। সেই পরিস্থিতি দেখে আরজাদ ও তাঁর মেয়ে সোজা হোটেলে ঢুকে পড়েন। হোটেলেই তাঁরা বন্দি হয়ে পড়েন। নেপালের পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিভাবে বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান।নিরুপায় হয়ে সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন করেন আরজাদ হোসেন। বিষয়টির ওপর নজর দেয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। তাঁরা উদ্যোগী হয় হোসেন পরিবারকে এই দেশে ফিরিয়ে আনতে। তাঁরা ভারতীয় সেনার সঙ্গে যোগাযোগের পরেই সমস্য সমাধানের পথ তৈরি হয়। সেনার তৎপরতায় বৃহস্পতিবার সকালে যোগবানী সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন আরজাদ হেসেন ও তাঁর মেয়ে। এই পরিবারের বক্তব্য ভারতীয় সেনা ও প্রশাসন ছাড়া তাঁরা এখন ফিরতে পারতেন না। স্বস্তি ফিরেছে সরাইটিকরের হোসেন পরিবারে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫
বিদেশ

প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগ, মন্ত্রীদের বাড়িতে আগুন, জ্বলছে প্রতিবেশি নেপাল

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সহিংস হয়ে ওঠার পর মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভূতপূর্ব, গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টিআইএ-র জেনারেল ম্যানেজার হংসরাজ পান্ডে জানিয়েছেন, কোটেশ্বরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন গুজবের মধ্যে টিআইএও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিক্ষোভকারীরা ললিতপুরের সানেপা পাড়ায় নেপালি কংগ্রেস পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এপির প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভকারীরা বালকোটে প্রধানমন্ত্রী ওলি, রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌদেল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। নেপাল সরকার দেশে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার একদিন পরই নতুন করে এই বিক্ষোভের ঢেউ শুরু হয়েছে। জেনারেল-জেডের নেতৃত্বে নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

লাল কেল্লা থেকে তেরঙ্গা উত্তোলন করেননি দেশের এই ২ প্রধানমন্ত্রী, কারণ জানলে চমকে যাবেন

Independence Day 2025: ভারতের স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম গর্বের দিন। ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট আমরা উদযাপন করব দেশের ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনে দীর্ঘ ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং অবিচল মনোবল আমাদের এনে দিয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ। সাধারণত প্রতি বছর ১৫ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এই ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর হাত ধরে।তবে জানেন কী দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী যারা কোনওদিন লালকেল্লা থেকে তেরঙ্গা উত্তোলন করেননি। কিন্তু তার পিছনে কী কারণ রয়েছে? সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ এই দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্য অনুযায়ী লালকেল্লার প্রাচীর থেকে তেরঙ্গা উত্তোলন করেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। কিন্তু দেশের ইতিহাসে এমনও দুই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যারা কখনও এই সুযোগ পাননি। তারা হলেন গুলজারিলাল নন্দ ও চন্দ্রশেখর।গুলজারিলাল নন্দগুলজারিলাল নন্দ দুবার দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেনপ্রথমবার ১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর এবং দ্বিতীয়বার ১৯৬৬ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ১৩ দিনের মতো। ফলে কোনওবারই ১৫ আগস্ট তাঁর কার্যকালের মধ্যে পড়েনি, আর তিনি লালকেল্লায় তেরঙ্গা উত্তোলনের সুযোগ পাননি।চন্দ্রশেখরভারতের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর ১৯৯০ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের জুন পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাঁর সরকার মাত্র ছয় মাসেই পতন হয়। সেই সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস না পড়ার কারণে তিনিও কখনও লালকেল্লায় তেরঙ্গা উত্তোলন করতে পারেননি।লালকেল্লায় তেরঙ্গা উত্তোলনের তাৎপর্য১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরু এই ঐতিহ্য শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় তেরঙ্গা উত্তোলন করে দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেন। এটি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, গর্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক।

আগস্ট ১৪, ২০২৫
দেশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে ৫০০০ কোটির বেশি মূল্যের প্রকল্পের সূচনা করবেন

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল খাতে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন।১৯৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দে তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরোয়া, বাণিজ্যিক ও শিল্পগ্রাহকদের PNG সংযোগ প্রদান করা হবে, রিটেল আউটলেটে CNG উপলব্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৩২ কিমি দীর্ঘ অংশটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যা প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা (PMUG) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জগদীশপুর-হলদিয়া ও বোকারো-ধামরা পাইপলাইন প্রকল্পের অংশ। আনুমানিক ১,১৯০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও নদিয়া জেলার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের জন্য এই পাইপলাইন নির্মাণকালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং এখন লক্ষাধিক পরিবারকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে সহায়তা করবে।পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর স্টিল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এবং রঘুনাথপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে ফ্লু গ্যাস ডিজালফারাইজেশন (FGD) সিস্টেম সংযোজনের প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যার আনুমানিক ব্যয় ₹ ১,৪৫৭ কোটি টাকা। এটি এলাকার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া-কোটশিলা রেললাইন দ্বিগুণ করার ৩৬ কিমি দীর্ঘ প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যার ব্যয় প্রায় ৩৯০ কোটি। এই প্রকল্পটি জামশেদপুর, বোকারো ও ধানবাদের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে রাঁচি ও কলকাতার সংযোগ উন্নত করবে, পণ্য পরিবহনের গতি বাড়াবে এবং শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে লজিস্টিক্স সুবিধা উন্নত করবে।সেতু ভারতম প্রকল্পের অধীনে পশ্চিম বর্ধমানের তোপসি ও পাণ্ডবেশ্বরে নির্মিত দুটি রোড ওভার ব্রিজ (ROBs)-এর উদ্বোধনও প্রধানমন্ত্রী করবেন, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা। এই সেতুগুলি রেল লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা রোধ এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরে তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল খাতে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন

জুলাই ১৭, ২০২৫
দেশ

প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, এইমসে সনিয়া, প্রিয়াঙ্কা, আসছেন রাহুল

প্রয়াত ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে দিল্লির ভর্তি করা হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। আজ রাতেই দিল্লির এমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এইমসে পৌঁছান সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।পঞ্জাবের গাহতে জন্মগ্রহণ করেন মনমোহন সিং। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করেছেন। অধ্যাপনা করেছেন জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্ণরও ছিলেন। অর্থনীতিতে পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন মনমোহন সিং। দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিচরণ করছেন। মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণের খবর পেয়েই দিল্লির AIIMS-এ পৌঁছোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কর্ণাটক থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জন খাড়গেরা। মনমোহন সিংয়ের মেয়ে এবং স্ত্রীও এইমস-এ রয়েছেন। অন্যদিকে, কর্ণাটকের বেলাগাভিতে চলমান CWC সভা মাঝপথে বাতিল করেছে কংগ্রেস। শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অগ্রগণ্য তিনি। তাঁর অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে তাঁকে রাজনীতিতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। মনমোহন সিং ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার বলে অভিহিত করলেও প্রধানমন্ত্রী থেকে তাবড় বিজেপি নেতৃত্ব শোকপ্রকাশ করেছেন। সজ্জন, ভদ্র, সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই দেশের জনতা মনে রাখবেন মনমোহন সিংকে।তিনিই প্রথম এবং একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি লোকসভা নির্বাচনে না জিতে রাজ্যসভা সদস্য হয়ে দুবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এরপরেও তিনি রাজ্যসভার মাধ্যমে কংগ্রেসের রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছিলেন। তাঁর সরকারের অনরাত্মা ছিলেন সনিয়া গান্ধী।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৪
দেশ

সেদিন প্রধানমন্ত্রী হলে

গত ৮ই জুলাই ছিল প্রয়াত জ্যোতি বসুর ১১১তম জন্মদিন। নিউটাউনে Jyoti Basu Centre for social studies and research য়ের নির্মীয়মান প্রাঙ্গণে পালিত হয় তাঁর জন্মদিন। বক্তা ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সিপিএমের দীর্ঘকালীন রেওয়াজ ছিল মুজফ্ফর আহমেদের জন্মদিন পালন। ১৯৬৩ সালের ৫ অগাষ্ট কাকাবাবুর জন্মদিন প্রথম পালিত হয়। সেই সময় অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টি ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। দলের মধ্যে যারা Dange বিরোধী ছিলেন তাঁরাই কাকাবাবুর জন্মদিন পালন করেছিলেন। উপলক্ষ ছিল শোধনবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই। পরের বছর-ই সিপিআই ভেঙে সিপিএম তৈরি হয়। সেই সময় থেকে দল প্রকাশ্যে শুধুমাত্র কাকাবাবুর জন্মদিনই পালন করে আসছে। ৮ই জুলাই জ্যোতি বসুর জন্মদিন। ওইদিন সকালে Saltlake য়ে ইন্দিরা ভবনে সুভাষ চক্রবর্তী ও রমলা চক্রবর্তী পথের পাঁচালীর ব্যানারে অনুষ্ঠান করতেন। দল কোনো অনুষ্ঠান করতো না। ২০২১ সেই ছবিটা বদলে গেল। ওই বছর ৮ই জুলাই দলের রাজ্য কমিটির অধীন Jyoti Basu Center for Social Studies and Research Trust নিউটাউনে অনুষ্ঠান করেন। সেই অনুষ্ঠানে ও সভাপতি ছিলেন বিমান বসু। পরের দিন গনশক্তিতে জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালনের খবর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। অর্থাৎ কাকাবাবু ছাড়া আর কারুর জন্মদিন পালন করা হবে না এই নিয়ম নিঃশব্দে উঠে যায়।আরও পড়ুনঃ গ্রামের বার্তা২০২১ সালে এই পরিবর্তনে মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানে এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সংসদীয় গণতন্ত্রের আঁকা বাঁকা পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছিল তাঁকে শরণে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানের কঠিন জমিতে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে সিপিএমের রণকৌশলে নতুন পথ নতুন ভাবনা দেখতে পাওয়ার সুচনা হল। কিন্তু তিন বছর পর মনে হচ্ছে হাতে থেকে যাচ্ছে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান সর্বস্বতা। জন্মদিনে প্রয়াত জ্যোতি বসু কে স্মরণ করা যতটা সহজ তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অনুশীলন রপ্ত করা ঠিক ততটাই কঠিন। বিশেষত দলের সাফল্যের ছায়ায় বেড়ে ওঠা নেতা নেত্রীদের পক্ষে তা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। আজ যখন শুধু রাজ্যে নয় সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও সিপিএম ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে তখন মনে হয় জ্যোতি বসু কে সামনে রেখে রাজনৈতিক জমি ঊর্বর করার যে সুযোগ এসেছিল তা হেলায় হারিয়েছে সিপিএম।আরও পড়ুনঃ রুষ্ট গনদেবতা১৯৮৯ ও ৯১ সালের মত ১৯৯৬-তেও ত্রিশঙ্কু হয়েছিল লোকসভা। ১৬১ টি আসন পেয়ে বিজেপি হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। বিজেপির সরকার গঠনের পথ বন্ধ করতে বিরোধী দল গুলি আলোচনায় বসে ছিল। ভি পি সিং, মুলায়ম সিং, লালুপ্রসাদ, করুনা নিধি সহ বহু নেতা প্রস্তাব দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু-কে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গড়া হোক। কারণ coalition সরকার চালানোর দক্ষতা এবং দিশা তাঁর থেকে বেশি আর কারুর নেই। কিন্তু সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। সেদিন সিপিএমের যুক্তি ছিল বুর্জোয়া - জমিদার রাষ্ট্রের প্রতিভূ কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেওয়া যাবে না। ভি পি সিং পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বিতীয় দিনে ভোটাভুটি-তে একই সিদ্ধান্ত হয়। সিপিএম প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার গড়েছিল বিজেপি। ১৩ দিন পরে সেই সরকারের পতন হয়। এর পরে কংগ্রেসের সমর্থনে দেবগৌড়া কে প্রধানমন্ত্রী করে coalition government তৈরি হয়। বছর খানেক পরেই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া কে পছন্দ হচ্ছেনা বলে জানায়। তখন হরকিসান সিং সুরজিৎ য়ের মধ্যস্থতায় প্রধানমন্ত্রী পদে I K Gujral কে মেনে নেয় কংগ্রেস। কিন্তু কিছু দিন পরেই তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে কংগ্রেস সমর্থন তুলে নিলে সরকার পড়ে যায়।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামিকেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সাত মাস পরে জ্যোতি বসু দলের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলেছিলেন। এরপরে BBC র Hard Talk অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর বিদেশ নীতি ও আর্থিক নীতি কী হবে এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতি বসু যা বলেছিলেন তা এক সুসংবদ্ধ বিকল্প নীতি হিসেবেই সেদিন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল। ৯৬ সালে জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হলে কী হতে পারতঃ* জ্যোতি বসুর সরকারকে মেয়াদ ফুরোনোর আগে ফেলে দিতে পারতোনা কংগ্রেস। কারণ জ্যোতি বসুর গভীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বভারতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে তাঁর গ্রহন যোগ্যতা।* দেশজুড়ে ভূমি সংস্কারের কাজ গতি পেতো।* কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন পথ দেখা যেত।* হাতে গোনা কিছু শিল্পপতি একচেটিয়া পুঁজি ফুলে ফেঁপে উঠত। * আরো কিছু বিদেশী ও বেসরকারি ব্যাংক জাতীয়করণ হত।* বিমান , প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্রের দরজা বিদেশি পুঁজির সামনে অবাধে খোলা হত না।* বেকারি, দারিদ্র্য, বৈষম্য কিছুই থাকতো না তা নয় , তবে আজকে যে চেহারা দেখা যাচ্ছে তা দেখা যেত না।* বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র অবহেলা নয় অগ্ৰাধিকার পেত।* কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধীদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠতো না।* কলকাতা বিমানবন্দরে রাজ্যে লগ্নির প্রস্তাব নিয়ে প্রথম সারির শিল্পপতিদের বিমান নামত।* সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম সিপিএমের পতনের প্রতীক হত না।* বরং কেরল, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বাইরে সিপিএমের রাজনৈতিক জমি শক্ত হত।

জুলাই ১৭, ২০২৪
রাজনীতি

শুভেন্দু গড়ে জনসভায় গড়হাজির, ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকে মোদীর নিশানায় তৃণমূল

প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাহত হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি। কাঁথি এবং তমলুকের সভা তাঁকে সারতে হল ঝাড়গ্রাম থেকেই। সোমবার ঝাড়গ্রামে ছিল মোদীর দ্বিতীয় জনসভা। আবহাওয়াজনিত কারণে, ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকেই তিনি কাঁথি এবং তমলুকের প্রার্থীদের হয়ে ভাষণ দেন।এক সভা থেকে অন্য সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী কপ্টারে করে পৌঁছন। কিন্তু, তাঁর কপ্টার ছাড়ার অনুমতি রক্ষীরা দেননি। তার কারণ, পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ। সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর তমলুকে বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি যাওয়ার কথা ছিল কাঁথির বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দু অধিকারীর হলদিয়ার সভায়। কিন্তু, সেখানে পৌঁছতে না পেরে ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীর সভামঞ্চ থেকেই তিনি বাকি দুটি সভার কাজ সারেন। প্রধানমন্ত্রী যে দুটি সভায় স্বশরীরে থাকতে পারবেন না, তা বিজেপি কর্মীদের জানিয়ে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।ঝাড়গ্রামের সভাস্থল থেকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে চরম আক্রমণ করেন। এর আগে রবিবার পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর এবং মেদিনীপুরে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার দেশে পঞ্চম দফা লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে বাংলায় সাতটি আসনে হয়েছে নির্বাচন। এমনিতে প্রতিটি নির্বাচনের দিন প্রধানমন্ত্রী সভা করেন। যে অঞ্চলে ভোট হবে, সেই জায়গার জন্য তিনি সভা করেন।প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বহু আগে থেকেই ঠিক থাকলেও আবহাওয়া দফতর সোমবার সকালেই জানিয়েছে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হবে। সঙ্গে বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা আছে। ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন রাজ্যের মানুষ। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর সভাও প্রাকৃতিক দু্যোগের কারণে ব্যাহত হল। তবে, প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছতে না পারলেও দুর্যোগ উপেক্ষা করে বিজেপি কর্মীরা সভায় যোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব ছিল বুথকর্মীদের সভাস্থলে নিয়ে আসার। তাঁরা সেইমত দূর-দূরান্ত থেকে কর্মীদের ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সভাস্থলে নিয়ে এসেছিলেন।

মে ২১, ২০২৪
কলকাতা

শনিবার কলকাতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী, রবিবার ২ জোড়া জনসভা বাংলায়

রবিবার সকালে ব্যারাকপুর থেকে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী জনসভা। সকাল ১১টা নাগাদ ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জগদ্দলে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে সভা করবেন। তার পর সেখান থেকে তিনি চলে যাবেন হুগলিতে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে দুপুর ১২টা নাগাদ চুঁচুড়ায় নির্বাচনী জনসভা রয়েছে তাঁর। হুগলির সভা সেরে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পুরশুড়ায় বিজেপি প্রার্থী অরূপকান্তি দিগড়ের হয়ে প্রচার করবেন। নির্বাচনী প্রচারে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীর সমর্থনে জনসভা দিয়ে শেষ করবেন কর্মসূচি। শেষ সভাটি হবে হাওড়া জেলার সাঁকরাইলে। বিকেল ৪টে নাগাদ এই সভাস্থলে পৌঁছনোর কথা রয়েছে তাঁর।

মে ১১, ২০২৪
বিদেশ

মোদি-র উদ্যোগে ভারত ভুটান মৈত্রী সম্পর্কে নতুন পালক

১৯৪৭ এ ভারত যখন স্বাধীন হয়, ভুটানই প্রথম দেশ যে ভারতকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ভারত ও ভুটানের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাতাবরণ তৈরী হয়। ১৯৪৯ এ ৮ ই আগস্ট প্রথম ভারত ও ভুটানের মধ্যে বন্ধুত্বের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার ভিত্তি ছিল মুক্ত বাণিজ্য ও প্রত্যপর্ণ প্রটোকলের প্রতিষ্ঠা। ভুটান ২০০৭ এ বন্ধুত্ব চুক্তির অধীনে ভারতের কৌশলগত চাহিদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন হয় এবং ভারত ও ভুটান তাদের পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থকে সর্বাধিক বা শক্তিশালী করতে সক্ষম হওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ে পরামর্শ করে। বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্কের দিক থেকে ভুটানকে ভারতের সাহায্য সবথেকে বেশি সুবিধাভোগী করে তুলেছে। লোকসভা ভোটের (২০২৪) আগে গত ২২শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটানে যান তার দ্বিতীয় দফার মেয়াদে এটি ছিল শেষ বিদেশ সফর।ভারত এবং ভুটানের মধ্যে নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ে বিনিময়ের যে ঐতিহ্য রয়েছে তারই ধারা রক্ষার্থে এই সফর করা হচ্ছে এবং প্রতিবেশী প্রথম নীতিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অনুমান করছেন ভারতীয় নাগরিকের একাংশ। শুক্রবার থিম্পুতে এক অনুষ্ঠানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভুটানের সর্বোচ্চ নাগরিকত্ব সন্মান অর্ডার অফ ড্রুক গ্যালপো তে সম্মানিত করেন। তিনিই প্রথম কোনো বিদেশী রাষ্ট্রনেতা,যাকে এই সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করে ভুটান। এই সম্মান পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, একজন ভারতীয় হিসেবে আজ আমার জীবনের একটি বড় দিন।আপনি আমাকে ভুটানের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এই সম্মান আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটা ভারত ও ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মান।এই পুরস্কারটি 2021 সালের ডিসেম্বরে ভুটানের জাতীয় দিবসের সময় প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল।A big thank you to my brother, PM @narendramodi Ji, for visiting us. Neither his busy schedule nor inclement weather could prevent him from fulfilling his promise to visit us. This must be the #ModiKaGuarantee phenomenon! pic.twitter.com/mXkD5a4MUU Tshering Tobgay (@tsheringtobgay) March 23, 2024অনেকেই মনে করেছেন ভুটানের সাথে ভারতের এই সখ্যের ছবি নিঃসন্দেহে অস্বস্থিতে ফেলবে চীনকে যারা ভুটানের সাথে সীমান্ত চুক্তির জন্য তৎপর হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর পাওয়া যায় মালদ্বীপের পর এবার ভুটানের নির্বাচনেও চীনের উপস্থিতি থাকবে এবং তাদের লক্ষ্য থাকবে ভারতের মিত্র দেশগুলিকে পরাজিত করা। কিন্তু ভুটানের জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে ভারতবন্ধু বলে খ্যাত শেরিং তোবগের দোল পিডিপিই জিতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ভুটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মান্যবর শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বড়ভাই বলে সম্মোধন করেন। হিমালয়ের দেশে আসার কয়েক ঘণ্টা পর, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে তিনি ভুটানের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ, তাঁর মতে তাদের সুন্দর দেশে স্মরণীয় স্বাগত করার জন্য এবং মোদী জানান তিনি আশা, যে ভারত-ভুটান বন্ধুত্ব এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর দেশের নেবারহুড ফার্স্ট নীতির অংশ হিসাবে ভুটানের সাথে ভারতের অনন্য এবং স্থায়ী সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চায়।

মার্চ ২৪, ২০২৪
দেশ

কি কি নথি প্রয়োজন সিএএ-এর জন্য? কিভাবে আবেদন? জানুন বিস্তারিত

CAAআর ইংরেজির সিক্সলোকসভা ভোটের মুখে CAA কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণা হল। এরপরেই রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। এই আইন কে ইংরেজি ছয়ের মতো দেখাচ্ছে, যা টেবিলে রেখে দেখলে একদিক থেকে মনে হবে ছয়, অন্যদিক থেকে দেখলে মনে হবে নয়। যেমন একপক্ষের বক্তব্য এই আইনের দৌলতে বহু মানুষ নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। অন্য পক্ষের দাবি এই আইনে নাগরিকত্বে টান পড়বে অনেক মানুষের। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই আইনের বলে ২০১৪ সালের ৩১ শেষ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ও পাকিস্তান থেকে যে সমস্ত হিন্দু, শিখ, জৈন, খৃষ্টান ও পার্শী ভারতে এসেছেন এবং নাগরিকত্ব চান তারা শংসাপত্র পাবেন।CAA র জন্য কি নথি লাগবে?বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে এলে সে দেশের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। সে দেশে জন্মের শংসাপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচয় পত্র, যে কোনো লাইসেন্স, জমি বা ভাড়াটে সংক্রান্ত রেকর্ড। আবেদনকারীর যিনি ওই দেশের নাগরিক ছিলেন তার প্রামাণ্য নথি। ওই নথিগুলির মধ্যে যে কোনো একটি দিতে হবেএছাড়াও যে নথি লাগবেকবে ভারতে প্রবেশ করেছেন তার প্রমান দিতে হবে। যেমন ভিসার ফটোকপি।ফরেনার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। ভারতে জনগণনার সময়ে গণনাকারীদের দেওয়া স্লিপ। ভারতীয় আধার কার্ড অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স। রেশন কার্ড, ভারত সরকারের দেওয়া জন্মের শংসাপত্র। আবেদনকারীর নামে ভারতীয় জমি বা ভাড়াটে কাগজ, প্যানকার্ড। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি সংস্থার দেওয়া কোনো নথি। ভারতীয় প্রশাসনে বা সংস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দেওয়া শংসাপত্র। আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টের প্রমান। ভারতীয় বিমা সংস্থার পলিসি। আবেদনকারীর নামে বিদ্যুতের বিল। আবেদনকারীর নামে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নথি যদি থাকে। ভারতে কর্ম সংস্থানের নথি। ভারতীয় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি যদি থাকে। ট্রেড লাইসেন্স। বিয়ের শংসাপত্র।এছাড়াও লাগবে হলফনামাআবেদনকারীর ঠিকানা। যে দেশ থেকে এসেছেন সেখানকার শেষ ঠিকানা। পাশাপাশি জানাতে হবে ধর্ম। এই সবই জানাতে হবে ম্যাজিস্ট্রেটের সই ও সিল সহ হলফনামায়।কি ভাবে আবেদনপ্রথমে সরকারের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে আবেদনকারীকে কিছু প্রশ্ন করা হবে। শেষ পর্যায়ে আবেদনের জন্য ৫০টাকা জমা দিতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট দিনে আবেদনকারীকে জেলা স্তরে যাচাই কমিটির কাছে উপস্থিত হতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে সব অরিজিনাল নথি। সবকিছু ঠিক থাকলে নিষ্ঠা শপথ নিতে হবে এবং লিখিত নিষ্ঠা শপথে সই করতে হবে। এরপরে ওই আবেদন যাবে রাজ্য স্তরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কাছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান চুড়ান্ত সিলমোহর দিলে আবেদনকারী পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল শংসাপত্র পাবেন।এই আইনে সঙ্গে কি নাগরিকত্ব হারানোর সম্পর্ক আছে?কেন্দ্রীয় সরকার বলছে এই আইনে কারো নাগরিকত্ব হারানোর প্রশ্ন নেই। আইন জারি হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে CAA র কারো নাগরিকত্ব যাবে না। মুসলমানদের এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। এই আইনের বলে কোনো ভারতীয় নাগরিক কে নিজের নাগরিকত্ব প্রমানে আর নতুন করে কোনো নথি দেখাতে হবে না। কিন্তু CAA চালু হওয়ার পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের যৌথ forum য়ে বিবৃতি জারি করেছেন সেখানে কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের মতে CAA র নিয়মে একটি ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই করবে। স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক আবেদন খারিজ হয়ে যাবে। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ রয়েছে যাঁরা বহুদিন ধরে এদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের রেশন, আধার, ভোটার কার্ড ও রয়েছে। তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তাঁরা কি নাগরিকত্ব হারাবেন? তাঁদের সব কার্ড কি বাতিল হয়ে যাবে? অন্য দেশ থেকে আসা মানুষকে নাগরিকত্ব পেতে যে সব নথি চাওয়া হয়েছে তা হয়তো দিতে পারলেন না। বা অন্য কারনে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে তাঁর পরিচিতি কি হবে? নাগরিক না অ-নাগরিক। এই জরুরি প্রশ্ন গুলির কিন্তু কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। অথচ CAA র মাধ্যমে কে নাগরিক, আর কে নয়, তার বাছাই পর্ব শুরু হবে।

মার্চ ১৬, ২০২৪
রাজ্য

ভোটে অস্ত্র CAA

কিছুদিন ধরেই হাওয়ায় ভাসছিল। অবশেষে মাটিতে নেমে এল। Citizenship Bill সংসদে পাশ হওয়ার চার বছর পরে আইনে পরিণত হল। লোকসভা নির্বাচনের দরজায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বার্তা মোদী যা বলেন, তাই করেন। আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার কয়েক মূহুর্ত পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর টুইট, সেই বার্তার ই প্রতিধ্বনি। টুইটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লেখেন,এই আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেন তা পালন করেন। ২০১৯ য়ের লোকসভা নির্বাচনে কয়েক মাস পরেই সংসদে CAA পাশ হয়। ওই নির্বাচনে বিজেপির ইস্তাহারে এই আইন চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই আইনের লক্ষ্য ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের যে শিখ, বৌদ্ধ,জৈন, খৃষ্টান,পার্শী ও হিন্দু রা অত্যাচারিত হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের জন্য একমাত্র স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল ভারত এই বার্তা দেওয়া। CAA র ফলে তাঁরা চাইলে ভারতে সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন। আশ্রয় যারা পাবেন সেই তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখ না থাকায় সংসদে CAA Bill পাশ হওয়ার পরেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে বিল পাশ হলেও আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা থেকে সরকার বিরত থাকে।দীর্ঘ সময় ধরে সরকার আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় বিরোধীরা সমালোচনার অস্ত্র পেয়ে যায়। বিরোধীরা বলতে থাকে বিজেপি নির্বাচন এলেই ভোটার দের মেরুকরণের জন্য CAA র গাজর ঝোলাতে থাকে। লোকসভা নির্বাচনের মুখে সেই আইন চালু করে বিজেপি বিরোধীদের অস্ত্র ভোঁতা করে দিল। এই আইন চালু করে বিজেপি মনে করছে পশ্চিম বঙ্গে তাদের আসন বাড়বে। এবার নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য ৩৭০-র ও বেশি আসন পাওয়া। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বিজেপি কে হিন্দি বলয়ের বাইরের রাজ্যে আসন বাড়াতে হবে। উত্তর প্রদেশের পরে যে তিনটি রাজ্যে লোকসভার আসন বেশি রয়েছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৪৮ টি আসন), পশ্চিমবঙ্গ (৪২ টি আসন) এবং বিহার (৪০টি আসন)। তাই পশ্চিমবঙ্গে আসন বাড়ানো এবার বিজেপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় দেশভাগের কারণে ওপার থেকে চলে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের বাস। এই সম্প্রদায়ের ভোট যে দিকে যাবে সেই দলের ঝোলায় অন্তত ২১টি বিধান সভা ও তিনটি লোকসভা আসন চলে যাওয়া নিশ্চিত। মতুয়া ছাড়াও দেশ ভাগের কারণে ওপার বাংলা থেকে বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের নানা ধোঁয়াশা ও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ও উদ্বেগ বেড়েছে। CAA লাগু হওয়ায় এই অংশের ভোটারদের ও সমর্থন পেতে পারে বিজেপি। ২০১৯য-র লোকসভা নির্বাচনে CAAর আশায় মতুয়া সম্প্রদায় ভোট দিয়েছিল বিজেপি কে। তবে CAA চালু না হওয়ায় গত বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ভোট কম পাওয়ায় বিজেপির ফল খারাপ হয়। তবে দক্ষিণবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায় এবং দেশভাগের কারণে আসা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের ভোট CAA র কারণে বিজেপি পেলেও উত্তর বঙ্গে রাজবংশী ভোট বিজেপির চিন্তা বাড়াতে পারে। কারণ রাজবংশী রা চায় NRC। তাদের ধারণা উত্তর বঙ্গে বাইরে থেকে আসা ঊচ্চবর্ণের মানুষ তাদের জায়গা, জমি, কাজ, ব্যবসা সব দখল করে বসে আছে।রাজবংশী দের চোখে এরা সবাই বিদেশি। তাই রাজবংশী দের দাবি বিদেশি তাড়াতে NRC চালু করতে হবে। উত্তর বঙ্গে NRC চালুর আশায় ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে রাজবংশী রা হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছিল বিজেপি কে। উত্তর বঙ্গের সমতলে জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ রাজবংশী। মূলত এদের ভোটেই উত্তর বঙ্গের সাতটি লোকসভা আসনে বিজেপি জিতেছিল। কিন্তু NRC নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ না করায় গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজবংশীদের বড় অংশ বিজেপি কে ভোট দেয়নি। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর বঙ্গের বিজেপির ফল ভালো হয়নি। এছাড়াও বিজেপির পথে কাঁটা হতে পারে দেশের শীর্ষ আদালত। CAA র বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২০ সালে Indian Union Muslim League প্রথম মামলা করে। এর পরে ২০০ টির বেশী মামলার আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলাকারি দের মধ্যে রয়েছেন আসাদ উদ্দিন ওএইসি, জয়রাম রমেশ, এবং মহুয়া মৈত্র। এছাড়াও রয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, অসম গণপরিষদ, National Peoples party ( Assam) এবং দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগম। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি U U Lalit য়ের বেঞ্চ জানায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলার শুনানি শুরু হবে। কিন্তু তারপর থেকে এখনো শুনানি শুরু হয় নি। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী মামলা গুলি বর্তমানে বিচারপতি পঙ্কজ মিথালের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তালিকাভুক্ত রয়েছে। মামলাকারিদের আবেদনে বলা হয়েছে CAA সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারাকে ভঙ্গ করছে। সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে The state shall not deny to any person equality before the law or the equal protection of the laws within the territory of India মামলাকারিদের আবেদন CAA তে ধর্মীয় বিভাজনের ফলে সংবিধানের এই বক্তব্য কে অস্বীকার করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ আদালত যদি মামলাকারিদের আবেদনের পক্ষে রায় দেয় তাহলে সমস্যায় পড়বে বিজেপি।

মার্চ ১৩, ২০২৪
রাজ্য

সিএএ নিয়ে মোদীর ঘোষণার আগেই তীব্র আক্রমণ মমতার

সিএএ নিয়ে তৎপরতার মধ্যেই নবান্নে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের মুখে কেন কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ কার্যকরের চেষ্টা চালাল? কেন আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছিল, এবার স্পষ্ট হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও বৈষম্য মানব না। এই জন্যই কি তাহলে মতুয়াদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছিল? যাঁরা এতদিন এই রাজ্যে আছেন, লেখাপড়া করছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব কাড়ার চেষ্টা কেন হচ্ছে? এটা কেন্দ্রীয় সরকারের ছলনা। আমি গোটা আইনটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রত্যেকে এদেশের নাগরিক। তাঁদের প্রত্যেকের সামাজিক, রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সম্পত্তিগত অধিকার আছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি গোটা বিষয়টি দেখার পর নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এরাজ্যের নাগরিকদের আমি কিছুতেই নাগরিকত্ব হারাতে দেব না। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও অশান্তি হোক, সেটা আমি চাই না। রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। সেটা হতে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী সিএএ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই জানিয়েছেন যে, সিএএ নাগরিকত্ব কাড়ার আইন নয়। এটা নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। যদিও অসমের পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ দেখে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হল, কী এই সিএএ? সংক্ষিপ্তসার হল, ২০১৯ সালে পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন এটা। আপাতত ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান নাগরিকদের এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর আগে যখন সিএএ আইন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তখনই প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই তাঁর নেতৃত্বাধীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস স্লোগান তুলেছিল, ক্যা ক্যা, ছি ছি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত প্রতিবাদের মধ্যেই সোমবার সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে সিএএ লাগু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

মার্চ ১১, ২০২৪
দেশ

রাজভবনে বৈঠক শুক্রবার, শনিবার জনসভায় মমতার সুরে সুর বাঁধলেন মোদী

আরামবাগের জনসভা থেকে রাজভবনে ফেরার ১০ মিনিট পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ১ ঘন্টার ওপর বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর আজ, কৃষ্ণনগরের জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এই সভাতে মোদী ৪২-এ-৪২ আসনের আবেদন জানিয়েছেন। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন থেকে ৪২-এ-৪২ আসনের কথা বলে আসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার পথেই হাঁটলেন মোদী।মহাপ্রভু শ্রীচৈতণ্যের ভূমি কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে শনিবার প্রথমেই মোদীর মুখে শোনা যায় হরে কৃষ্ণ, জয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। বাংলায় ভাষণ শুরু করেই ধীরে ধীরে ঝাঁঝ বাড়াতে থাকেন মোদী। একদিকে, রাজ্যের তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সরকারকে আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি সামনের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিপক্ষদের কুপোকাত করতে বড় টার্গেট বেঁধে দিলেন দলকেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সভা-সমাবেশে ঠিক যে কায়দায় কর্মী-সমর্থকদের চার্জ করেন, ঠিক তেমন কায়দাতেই নমোরও ঝোড়ো ব্যাটিং কৃষ্ণনগরের ময়দানে।পশ্চিমবঙ্গে মা, মাটি, মানুষের স্লোগান দিয়ে মা-বোনেদের ভোট নিয়ে ওদের বিভ্রান্ত করেছে তৃণমূল। এখন মা, মাটি, মানুষ তৃণমূলের কুশাসনে কাঁদছে। কেন্দ্রের প্রকল্পে নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। সব প্রকল্পকে তৃণমূল দুর্নীতিতে বদলে দেয়। গরিবের রেশন লুঠ করেছে। তৃণমূল বাংলাকে বদনাম করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প কারা পাবে তা এখানে ঠিক করে তৃণমূলের তোলাবাজরা।এর আগে একাধিক সমাবেশে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছে লোকসভার সব আসনেই তাঁর দলকে জয়ী করার আবেদন। অর্থাৎ বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্য ছিল মমতার। এবার একই লক্ষ্যে স্থির মমতা। রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা BJP-র শীর্ষ সেনাপতি অমিত শাহ বঙ্গ বিজেপিকে লোকসভায় জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়ে গিয়েছিলেন।কমপক্ষে ৩৫টি আসনে যাতে দলের প্রার্থীরা জয় পান, সেব্যাপারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ার বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারদের। তবে মোদী এবার অমিত শাহের সেই টার্গেটকেও ছাপিয়ে গিয়ে আরও বড় লক্ষ্য স্থির করে দিলেন বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে।মোদীর স্লোগান, এবার NDA সরকার ৪০০ পার! বাংলায় ৪২টির ৪২টি আসনেই পদ্ম ফোটাতে হবে। আমার একটি কথা নিয়ে আপনারা বাড়ি বাড়ি যাবেন। বলবেন মোদী এসেছিলেন, আপনাদের প্রত্যেককে প্রণাম জানিয়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০২, ২০২৪
রাজ্য

আরামবাগে তৃণমূলকে তুলোধনা, রাজভবনে মোদী- মমতা বৈঠক

একঘন্টারও একটু বেশি, আরামবাগের সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই সন্ধ্যার মুখে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজভবনে যান দিদি। বৈঠক চলে এক ঘন্টার বেশি। এরপর সন্ধ্যায় ৬ টাব৪৫ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে আসেন মমতা। কী আলোচনা হল? জবাবে রাজভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন,আজ প্রেটোকল মেনে মোদীজির সঙ্গে দেখা করেছি, গল্প করলাম, বাংলার মিষ্টি দিলাম।বাংলায় মোদী। আক্রমণের সুর চড়িয়েছিল তৃণমূল। ফলে বঙ্গ রাজীনীতির পারদ বেশ চড়া। তার মধ্যেই স্বয়ং মোদী সোচ্চার হয়েছে সন্দেশখালি, তৃণমূল সরকারের একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বদলের ডাক দিয়েছেন। গ্যারান্টি হিসাবে নিজেকে দেখিয়েছেন এ রাজ্যের ভোটারদের। এই আবহে মোদী-মমতা বৈঠক। স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা ছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর গল্প করলাম, বাংলার মিষ্টি দিলাম মন্তব্যের পরই সাংবাদিকরা প্রশ্ন ছোঁড়েন আর কী কথা হয়েছে? উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিলেন, বাকী যা কিছু বলার রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বলব। অর্থাৎ রাজভবনে দাঁড়িয়ে মোদীর নিন্দার জবাব এড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই আজ আরামবাগের সভা থেকে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এদিন আরামবাগ থেকে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। সভা শেষে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রাজভবনে আসেন মোদী। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও রাজভবনে এসে পৌঁছান। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, আজকের এই বৈঠক নেহাতই হতে চলেছে সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎকার। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা লোকসভার আগে ১০০ দিনের কাজের টাকা ও আবাস যোজনার বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া নিয়ে কথা আজকের বৈঠকে হতে পারে মোদী-মমতার। সেই বিষয়ে কী আদৌ কোন কথা হয়েছে এদিনের বৈঠকে? সেই প্রশ্ন সরাসরি এদিন এড়িয়ে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।মোদী-মমতার সাক্ষাৎ নিয়ে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীকে এ দিন নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি , সন্দেশখালি নিয়ে হুঙ্কার ছুঁড়েছেন মোদী। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দোষীদের কোনভাবেই রেয়াত করা হবে না, রাজভবনে উনি প্রধানমন্ত্রীর পা ধরতে যাচ্ছেন! কিন্তু এ সব করে কোনও লাভ হবে না।লোকসভার আগে বঙ্গ সফরে এসে সন্দেশখালি এবং দুর্নীতি ইস্যুতে ফের একবার মমতা সরকারকে ধুয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রত্যাশিতভাবেই মোদীর আজকের সভায় ওঠে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ। দ্বীপাঞ্চলের নির্যাতিতাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করেন তিনি। মুখ খুলেছেন শেখ শাহজাহান ইস্যু নিয়েও।মোদী এদিন বলেন, মা, মাটি, মানুষের ঢোল পেটানো তৃণমূল সন্দেশখালির যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে তা দেখে সারা দেশ আজ দুঃখী। রাজা রামমোহন রায়ের (Raja Ram Mohan Roy) আত্মাও আজ যেখানেই থাকবে আজ এদের এই কাণ্ড দেখে অত্যন্ত দুঃখী হবে। এরা সন্দেশখালিতে যা করেছে তা দেখে রাজা রামমোহন রায়ের আত্মাও হয়তো কাঁদছে।সন্দেশখালির ঘচনা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করে এদিন মোদী আরও বলেন, কিছু লোকজনের ভোট সন্দেশখালির মা-বোনেদের চেয়েও বেশি দামী? আপনাদের লজ্জা নেই? বাংলার পরিস্থিতি আজ গোটা দেশ দেখছে।

মার্চ ০১, ২০২৪
রাজ্য

ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি বাংলা পক্ষর

ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে চিঠি দিল বাংলা পক্ষ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যাতে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয় সেই আবেদন জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের জন্মজয়ন্তীতে ফের এই দাবি তুলেছে বাংলা পক্ষ। দীর্ঘ দিন ধরেই এই দাবি করে আসছে বাঙালির জন্য লড়াই করা এই সংগঠন।গতকাল ট্যুইটার ক্যাম্পেনও করেছিল বাংলা পক্ষ।হ্যাসট্যাগ ছিলঃ#Bengali_Regiment_in_Indian_Armyবাংলা পক্ষর দাবি, ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট চাই। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরির পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দেওয়ার সুযোগ চাই। বাংলার সরকার দিল্লির যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কাছে এই দাবি জানাক।সংগঠনের দাবি, এই ঘোষণা হলে তবেই বীর সুভাষ চন্দ্র বসু ও অসংখ্য বাঙালি বিপ্লবীদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন হবে। এদিন রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে বীর সুভাষের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী পালন করে বাংলা পক্ষ। নানা জেলায় ট্যাবলো বেরিয়েছে এবং শোভাযাত্রা হয়েছে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
দেশ

Condolence: জেনারেল রাওয়াতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ, শোকবার্তা রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রীর

জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ টুইটারে তাঁর শোকবার্তায় লেখেন, জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং তাঁর স্ত্রী মধুলিকা জির অকাল মৃত্যুতে আমি মর্মাহত ও ব্যথিত। জাতি তার এক বীর সন্তানকে হারাল। মাতৃভূমির জন্য তাঁর চার দশকের নিঃস্বার্থ সেবা নায়কোচিত এবং ব্যতিক্রমী বীরত্বের সূচক। তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।Its deeply painful for me to learn of the loss of lives in the chopper crash. I join the fellow citizens in paying tributes to each of those who died while performing their duty. My heartfelt condolences to the bereaved families. President of India (@rashtrapatibhvn) December 8, 2021জেনারেল রাওয়াতের স্মৃতিচারণ করে বুধবার একাধিক টুইট করেন মোদি। একটি টুইটে তিনি লেখেন, জেনারেল বিপিন রাওয়াত একজন অসামান্য সেনানী ছিলেন। ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্নে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি এবং দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যতিক্রমী। তাঁর মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। ওম শান্তি।Gen Bipin Rawat was an outstanding soldier. A true patriot, he greatly contributed to modernising our armed forces and security apparatus. His insights and perspectives on strategic matters were exceptional. His passing away has saddened me deeply. Om Shanti. pic.twitter.com/YOuQvFT7Et Narendra Modi (@narendramodi) December 8, 2021অন্য একটি টুইটে মোদির মন্তব্য, তামিলনাড়ুতে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। সেখানে আমরা জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর অন্য সদস্যদের হারিয়েছি। তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ভারতের সেবা করেছেন। শোকাহত পরিবারের পাশের রয়েছি আমি।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌ndia vs Pakistan : আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হার নিয়ে খোঁচা ইমরান খানের!‌

বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পকিস্তান। ভাবখানা এমন, যেন বিশ্বকাপ জিতেই গেছে। হবে নাই বা কেন, কোনও দিন বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেনি। এই প্রথম বিশ্বকাপে জয়। পাকিস্তানের কাছে তাই অন্যমাত্রা পেয়েছে কোহলিদের হারানো। উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভারতকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি পাকিস্তানিরা। স্বয়ং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানও ভারতকে খোঁচা দিয়েছে। রিয়াধে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ইমরান খান। সেই অনুষ্ঠানে ইমরান বলেন, মধ্য এশিয়ার বাজার ধরতে গেলে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা দরকার। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ভাল হত। কিন্তু রবিবার বিশ্বকাপে ভারতকে বিধ্বস্ত করার পর ওদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কথা এখন বলা যাবে না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে পরোক্ষভাবে কোহলিদের বিশ্বকাপে হারানো নিয়ে খোঁচা দেন ইমরান। প্রাক্তন জোরে বোলার শোয়েব আখতারও ভারতের হার নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। রবিবারের ম্যাচে আগে হরভজন সিং বলেছিলেন, ভারতপাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানের ওয়াকওভার দেওয়া উচিত। কারণ বিশ্বকাপে তো কখনও জেতেনি। এবারও হারবে। বিরাট কোহলিরা ১০ উইকেটে হারের পর ভাজ্জিকে খোঁচা দিয়েছেন শোয়েব আখতার। তিনি বলেছেন, ভাজ্জি পারছে এই পরাজয় সহ্য করতে। আইপিএলে দারুণ বোলিং করেছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সলমন বাট বরুণ চক্রবর্তীকে তাচ্ছিল্য করে বলেছেন, বরুণ যে বোলিং করেছেন তা পাকিস্তানের রাস্তর ক্রিকেটে হামেশাই হয়ে থাকে। এটা নয় যে বরুণ ভালো বোলার নয়। কিন্তু ওর যে বৈচিত্র্য, তার সঙ্গে পরিচিত পাক ব্যাটাররা। ওকে সহজেই খেলেছে বাবর ও রিজওয়ান। পাকিস্তানের এক কৌতুক-অভিনেতা ইয়াসির হোসেন বিরাট কোহলির একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে আইপিএলে শরীরচর্চার ফাঁকে কোহলি নাচছেন। সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি পাঞ্জাবি গান লেপে দিয়ে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, পাকিস্তানিদের তরফে ফতেহ মুবারক জানাই। বেটার লাক নেক্সট টাইম ইন্ডিয়া! ম্যাচের মতোই অসাধারণ কোহলির নাচ।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
বিদেশ

Afghanistan: আফগানিস্তানে ঘোষিত হল তালিবান সরকার

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ঘোষিত হল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। মঙ্গলবার রাতে প্রথম দফার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন সংগঠনের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ। মহম্মদ হাসান আখুন্দ হলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী। আব্দুল গনি বরাদর হলেন তাঁর ডেপুটি।আফগানিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার সামলাবে আমির খান মুত্তাকি আর তাঁর ডেপুটি আব্বাস স্তানিকজাই।। সরাজউদ্দিন হাক্কানি সে দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী। উল্লেখ্য, হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সরাজউদ্দিন হাক্কানি। আর সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ সামলাবেন মোল্লা ইয়াকুব। রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে এই নাম ঘোষণা করেছে তালিবান।আরও পড়ুনঃ পুজোয় ঠাকুর দেখতে পারবেন? কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রীদায়িত্বপ্রাপ্ত বিদেশ মন্ত্রী হলেন আমির খান মুত্তাকি। দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোল্লা হেদিয়াততুল্লা বাদরিকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রী করা হয়েছে শেখ মওলায়ি নুরুল্লাকে। সংস্কৃতি মন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা খাইরুল্লা খেরখানকে। সূত্রের খবর অনুসারে,মঙ্গলবার রাতে কাবুলে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ। তিনি ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল মোল্লা ওমর। তিনি আরও বলেন, ইসলামিক এমিরেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা দিয়ে সরকারের কাজ করবে। মুজাহিদ মোট ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেন সাংবাদিক বৈঠকে। বাকি মন্ত্রীদের নাম আগামী বৈঠকের পরই ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।অন্য তালিব নেতাদের তুলনায় কম পরিচিত মুখ হলেও আখুন্দের নাম রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জঙ্গি-তালিকায়। বিশেষ সূত্র উদ্ধৃত করে একটি পাক দৈনিকের দাবি, নয়া সরকারের প্রধান হিসেবে আখুন্দের নাম প্রস্তাব করেন তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজ়াদা স্বয়ং। হিবাতুল্লাকে ইরানের কায়দায় দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসিয়ে তাঁর অধীনে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তালিবান সরকার গড়বে বলে শোনা যাচ্ছিল। তাঁর ভূমিকা নিয়ে আজ কোনও ঘোষণা করেনি তালিবান। তবে হিবাতুল্লা এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি, এঁরা দেশে শরিয়া আইন এবং ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর পরিশ্রম করবেন। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, শ্রীবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন তাঁরা। কেউ যেন দেশ ছাড়ার চেষ্টা না করেন। ইসলামি আমিরশাহিতে কাউকে নিয়েই কোনও সমস্যা নেই।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১
দেশ

Modi-Mamata: দুটি দাবি নিয়ে ২৫ মিনিটের বৈঠক মোদি-মমতার

ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টিভেজা রাজধানীতে মঙ্গলবার ৪ টে বাজার মিনিট পাঁচেক আগেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭ লোককল্যাণ মার্গে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনিট ২৫-এর বৈঠক করেন। তারপর বেরিয়ে এসে মুখোমুখি হন সংবাদ মাধ্যমের। সেখানে মমতা জানান, সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মূলত দুটি দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রথমত, রাজ্যে করোনা টিকার সরবরাহ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলায় পরিবর্তন করার বিষয়টি দেখতে বলেছেন তিনি।আরও পড়ুনঃ দিনভর হেভিওয়েটদের সঙ্গে বৈঠক মমতারনানা জল্পনা এবং রাজনৈতিক সম্ভবনার আবহেই প্রায় দেড় বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন মোদি ও মমতা। সকাল থেকে এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের দিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সেই বৈঠক এ দিন ২৫ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে মমতা বলেন, তৃতীয়বার আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলাম। এটা সম্পূর্ণভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। নির্বাচনের পর দেখা করাটা সাংবিধানিক বাধ্যকতা। কী নিয়ে আলোচনা হল বৈঠকে? মমতা বলেন, আমি কোভিড নিয়ে আলোচনা করেছি। যা ভ্যাকসিন পাওয়া গিয়েছে তার থেকে আমাদের চাহিদা আরেকটু বেশি। প্রত্যেক রাজ্যই পাক, তাতে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু আমাদের রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে কম ভ্যাকসিন এসেছে।আরও পড়ুনঃ স্পেনের বিরুদ্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারতএই ছিল মমতার প্রথম দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় দাবিটি ছিল, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের বিষয়টি যেন কেন্দ্রীয় সরকার বিচার করে। তাঁর কথায়, অনেকদিন হয়ে গেল। দয়া করে এ বার আপনি আমাদের রাজ্যের নামটা বদলের ব্যবস্থা করুন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সমস্ত আবেদন শুনেছেন বলেই এ দিন দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

জুলাই ২৭, ২০২১
বিদেশ

Netanyahu: ইজরায়েলে নতুন সুর্যের উদয়, অবসান একযুগের

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu) এক যুগের শাসন শেষ হল ইজরায়েলে। রবিবার ১২০ আসনের সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত হলেন নফতালি বেনেট (Naftali Benette)। গত ১২ বছর ধরে ইজরায়েলের মসনদ সামলে এসেছেন সত্তরোর্ধ্ব নেতানিয়াহু। তবে ইদানিং তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয় সে দেশে। অবশেষে সেই টালমাটাল পরিস্থিতির অবসান হল। নতুন সরকার গঠনে সম্মতি দিল ইজরায়েলের সংসদ।১২০ আসনের সংসদে এদিন ৫৯টি ভোট পড়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে। নতুন জোট সরকার গড়ার পক্ষে ভোট পড়ে ৬০টি। সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নাফতালি ইতিমধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে বহুলচর্চিত নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় তিনি। ইজরায়েলে সব থেকে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তিনি। এবার সেই নেতানিয়াহু সংসদে বসবেন বিরোধী পক্ষের নেতা হিসাবে।একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গাজ়ায় বোমারু বিমানের হানাদারি নিয়েও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এরপরই ধীরে ধীরে তাঁর ১২ বছরের গদি টলমল করা শুরু হয়। বাম-ডান নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়। নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসানের খবরে এদিন তেল আভিভের রাস্তায় নামে হাজার মানুষের ঢল। আনন্দে মাতোয়ারা তাঁরা।নেতানিয়াহু ছিলেন দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরমতম উদাহরণ। অভিযোগ, বিরোধীদের দমনপীড়ন থেকে শুরু করে, সরকার ও প্রশাসনকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রবিবার সংসদের ভোটে জিতেই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন ৪৯ বছরের বেনেট। আর তাঁর আগমনেই নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে ইতিহাস হয়ে থাকল ইজরায়েলের রাজনীতি। এই প্রথম ইহুদী (Jews) দেশের সরকারে যেমন অতি দক্ষিণপন্থীরা আছেন, তেমনই আরব মুসলিমরাও আছেন। অতি দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সে দেশে বসবাসকারী ২১ শতাংশ আরব মুসলিম (Islams)।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ইজরায়েলের মসনদে বসেছিলেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। জেরুজালেমের আদালতে তাঁর দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে, তাঁর জেলে যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। এছাড়াও তাঁর লিকুদ পার্টির (Likud Party) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের দাবি, নেতানিয়াহুর বিদায়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করবে। ভারতের সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক রয়েছে ইজরায়েলের (India-Israel)। সে দেশের পালাবদল নিয়ে এদিন রাতে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিদেশ মন্ত্রক থেকে। তবে কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভবিষ্যতে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা।

জুন ১৪, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারত

ক্রাইস্টচার্চে চার উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় টিম ইন্ডিয়ার, শেষ মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিলেন নমন ধীর। তবে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েও বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে পারল না ভারত।সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারতনিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতেই রুদ্ধশ্বাস জয় ভারতের। গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২২৫ রানের পাহাড় গড়েও শেষরক্ষা হল না কিউয়িদের। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো অর্ধশতরান এবং শ্রেয়স আইয়ারের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর শেষবেলায় ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন নমন ধীর। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেলেন সূর্যকুমার যাদবরা।নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ফিলিপ্সের দাপটটস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে এগোতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করতে না পারায় ক্রমশ হাত খুলে খেলার সুযোগ পান কিউয়ি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলে স্বাগতিক দল। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নজিরও গড়ে নিউজিল্যান্ড।কিউয়িদের ইনিংসের মূল আকর্ষণ গ্লেন ফিলিপ্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। ৪৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপ্স। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের সম্ভার। ইনিংসের শেষ বলেও সুইচ হিটে চার মেরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এই কিউয়ি তারকা।ফিলিপ্সকে যোগ্য সঙ্গত দেন ফিন অ্যালেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। এ ছাড়া বেভন জ্যাকবসের ৩১ এবং ড্যারিল মিচেলের ২৮ রানের ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ও ময়াঙ্ক যাদব একটি করে উইকেট নেন। তবে রান আটকানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেষের দিকে কিউয়ি ব্যাটারদের আগ্রাসন সামলাতে পারেননি তাঁরা।সঞ্জুর বিধ্বংসী শুরু, পাওয়ার প্লে থেকেই চাপে কিউয়িরা২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার। সঞ্জুর ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যায় দ্রুত বাড়তে থাকে ভারতের রান। মাত্র ২৩ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে কিউয়ি বোলারদের কোনও সুযোগই দিতে চাননি ভারতীয় ওপেনার।অভিষেক শর্মাও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে দলের রানকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ফলে পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমেনি ভারতের। সপ্তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান সঞ্জু। আট ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১১২।কিন্তু এই ঝোড়ো শুরুই শেষ পর্যন্ত সহজ জয় এনে দিতে পারেনি ভারতকে। স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই বদলাতে থাকে ম্যাচের ছবি। ব্রেসওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক। এরপর তিলক বর্মার ব্যাট থেকেও প্রত্যাশিত রান আসেনি। ১১ বলে মাত্র ছয় রান করে আউট হন তিনি।এর মধ্যেই স্যান্টনারের বলে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংসে আটটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিলেও ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি এই ওপেনার।মাঝের ওভারেই পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্রসঞ্জু আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিংয়ে চাপ বাড়তে থাকে। তিন নম্বরের পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে নামা ঈশান কিষাণও ব্যর্থ হন। মাত্র তিন বল খেলে এক রান করে ফেরেন তিনি। একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান তুলে ফেলা ভারত অল্প সময়ের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।এরপর অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২৪ রান করে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ম্যাচের রাশ ক্রমশ কিউয়িদের হাতে চলে যাচ্ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। ২৮ বলে ৪২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হন শ্রেয়স।শেষ ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। চাপের মুখে ম্যাচ তখন কার্যত দোলাচলে। এমন পরিস্থিতিতেই ক্রিজে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন নমন ধীর। দ্রুত রান তুলে ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। কিউয়ি বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ভারতকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেন এই ব্যাটার।শেষ ওভারে নমনের বিস্ফোরণ, জয় ভারতেরশেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল আট রান। উত্তেজনায় টানটান ম্যাচে তখন সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। কিন্তু নমন ধীর কোনওরকম স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েননি। বরং সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নমন।মাত্র ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। সঞ্জুর বিধ্বংসী সূচনা এবং শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর নমনের এই ফিনিশিং ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনে দেয়। বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসও নিঃসন্দেহে বাড়াবে এই জয়।কিউয়িদের ফিল্ডিং ব্যর্থতাও ভারতের জয়ের বড় কারণতবে ভারতের জয়কে সহজ করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচটি ক্যাচ ফেলে দেন কিউয়ি ফিল্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা ম্যাচে টিকে থাকার পাশাপাশি রান তোলার গতি বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতার মূল্য দিতে হয় স্বাগতিক দলকে।যদিও ভারতের ফিল্ডিংও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। দুই দলের ফিল্ডিংয়েই একাধিক ভুল চোখে পড়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে জয় এলেও ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল বোলিংম্যাচ জিতলেও ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা কম। ২০ ওভারে ২২৫ রান খরচ করে কিউয়িদের বড় স্কোরে পৌঁছতে দেওয়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়াবে টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা ভারতের দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।বড় রান তাড়া করে জয় পাওয়ার নজির আগেও রয়েছে ভারতের। তবে এই ম্যাচে ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি সামলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, বোলারদের কাছ থেকেও তেমনই কার্যকর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করবে দল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে সেই ঘাটতি মেটানোই হবে ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।সব মিলিয়ে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি ভারতের কাছে একদিকে স্বস্তির জয়, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং, শ্রেয়স আইয়ারের লড়াই এবং নমন ধীরের অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ম্যাচ জিতিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে না পারলে পরের ম্যাচগুলিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে নজর থাকবে সেই দিকেই।ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফলনিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২২৫/৪ভারত: ১৯.৪ ওভারে ২৩০/৬ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ীসঞ্জু স্যামসন: ৩৩ বলে ৬৭শ্রেয়স আইয়ার: ২৮ বলে ৪২নমন ধীর: ১৫ বলে অপরাজিত ৪২গ্লেন ফিলিপ্স: ৪৮ বলে অপরাজিত ৮২

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইস্টবেঙ্গলের ঘরে নতুন লগ্নির আলো! উৎসবেই কি চমক, বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে আসছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম?

ইমামির বিদায়ের পর লাল-হলুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনায় নতুন আশার সঞ্চারইমামি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিনিয়োগকারী হিসেবে সম্পর্কের অবসানের পর থেকেই নতুন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধানে ছিল ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার লাল-হলুদের বিনিয়োগকারী হওয়ার দৌড়ে উঠে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) নাম। সূত্রের খবর, ক্লাব ও সংস্থার মধ্যে কথাবার্তা বেশ কিছুটা এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে উৎসবের মরশুমেই নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারে ইস্টবেঙ্গল। যদিও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া শুধুমাত্র আর্থিক সংস্থানের প্রশ্ন নয়, আগামী দিনের ফুটবল পরিকল্পনার সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দল গঠন, ভালো মানের ফুটবলারদের ধরে রাখা, নতুন প্রতিভা তুলে আনা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নসব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অর্থের জোগান প্রয়োজন। সেই জায়গায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক লাল-হলুদ শিবিরকে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সংস্থাকে ঘিরে প্রত্যাশাহলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপ (টিসিজি)। এই সংস্থা হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রধান উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, সংস্থাটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও অংশীদারি রয়েছে। ফলে এই সম্ভাব্য সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।তবে শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্লাবের সম্ভাব্য সম্পর্কের গুরুত্ব যতই থাকুক, চুক্তির আর্থিক কাঠামো এবং পরিচালন সংক্রান্ত শর্তগুলি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন বিনিয়োগকারী ক্লাবের দৈনন্দিন পরিচালনায় কতটা ভূমিকা নেবে, ফুটবল দলের বাজেট কতটা বাড়বে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, সে সবই এখন দেখার বিষয়।ইমামির বিদায়েই শুরু নতুন অধ্যায়গত ২৫ অগস্ট বিবৃতি দিয়ে ইমামি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের ভূমিকার অবসান ঘটছে। গত আইএসএল মরশুম শেষ হওয়ার পর থেকেই এই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ইমামির জায়গায় লাল-হলুদের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবে কোন সংস্থা?চলতি মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জার্সিতে ছোট আকারে ফিরে আসে ইমামির লোগো। তার আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে গেলেও ক্লাবের সঙ্গে স্পনসর হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী সংস্থাটি।পরে ইমামির বিবৃতিতেও সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, বিনিয়োগকারী ও পরিচালন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরে এলেও স্পনসর হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকবে তারা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, বিনিয়োগের অধ্যায় শেষ হলেও লাল-হলুদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার পথে হাঁটেনি ইমামি।আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটানোর অপেক্ষানতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফুটবলারদের বেতন বকেয়া থাকার খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। নতুন মরশুমে দল গঠন, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য খরচের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।এই পরিস্থিতিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসা লাল-হলুদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলতে পারে।তবে নতুন বিনিয়োগকারী এলেই যে সমস্ত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ, অর্থ প্রদানের সময়সূচি, ক্লাব পরিচালনায় অংশীদারিত্ব এবং ফুটবল বিভাগের জন্য বরাদ্দপ্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শর্তগুলির উপরেই নির্ভর করবে নতুন সমীকরণে ইস্টবেঙ্গল কতটা লাভবান হবে।উৎসবের মরশুমেই কি লাল-হলুদে নতুন সূর্যোদয়?ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী পাওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। ঐতিহ্য, বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী এবং সাফল্যের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক ফুটবলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক ভিত। সেই ভিত মজবুত করার লক্ষ্যেই এখন নজর নতুন বিনিয়োগকারীকে ঘিরে।সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে থাকায় উৎসবের মরশুমে ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না চুক্তি সম্পূর্ণ হচ্ছে এবং ক্লাব বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসছে, ততক্ষণ বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখতে হবে।শেষ পর্যন্ত হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া বাঁধা হলে তা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই ঘোষণাই স্পষ্ট করবে, নতুন বিনিয়োগের হাত ধরে লাল-হলুদ শিবির কতটা নতুন পথে এগোতে পারে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর পুজোর আগেই আগাম প্রস্তুতি! শ্যামপুরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। শ্যামপুরে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, নদীবাঁধ মেরামতি, কর্মসংস্থান ও আবাস যোজনা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি।শ্যামপুর: উৎসবের আনন্দের মধ্যে চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় যে বেদনার ছায়া নেমে এসেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চায় রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের পুজোয় যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজ্যের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দিন বিশেষ গুরুত্ব পায় চোরবাগানের দুর্ঘটনা। প্রথম সপ্তমীর রাতে ওই ঘটনায় প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বেদনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ঘটনার তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপর্যয় আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। বাকি ছটি পরিবারের সঙ্গে ২৩ ও ২৪ তারিখের মধ্যে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনহারা পরিবারের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি।শ্যামপুরের অতীত প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণবিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের কয়েক বছর আগের অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এক সময়ে যাঁরা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, তাঁদেরই এখন প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর আরও মন্তব্য, যাঁরা দুর্গাঠাকুর ভেঙেছিলেন, তাঁদের মা দুর্গাই ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।১৪ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে ১০০ শয্যারশ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এলাকায় ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার আশ্বাস দেন তিনি। শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নদীবাঁধের ভাঙন রোধে উদ্যোগ, কাঠের সেতুর বদলে পাকা ব্রিজপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে শ্যামপুরের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই এলাকায় নদীবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকা কাঠের সেতুগুলিকে পাকা সেতুতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।শ্যামপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।আগামী ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও এ দিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে কোন কোন দপ্তরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং তার বিস্তারিত সময়সূচি কী, সে বিষয়ে এ দিনের বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজের নির্দেশ, আবাস যোজনায় আরও ২৫ লক্ষ বাড়িগ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি-জিরামজি প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে আগামী ছমাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১২৫ দিনের কর্মসূচিতে ৩৭০ ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে আরও ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।চোরবাগানের দুর্ঘটনা এ দিনের অনুষ্ঠানে শোক ও সতর্কতার বার্তা নিয়ে এলেও, একই মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং আবাসন নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্পগুলির কতটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
দেশ

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে ‘না’, জামিনের শর্তে কী মুচলেকা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা?

এক সপ্তাহ তিহাড়ে কাটিয়ে মুক্তি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনজ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় দুই নেতা।এক সপ্তাহ জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। বুধবার বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তবে মুক্তির পথ একেবারে শর্তহীন ছিল না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনুমতি ছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচি না করা এবং শান্তিভঙ্গকারী কোনও কাজে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়েছে দুই নেতাকে। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন তাঁরা।প্রশাসনের নির্ধারিত বিধি উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর অভিযোগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরেও সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশি পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে দুই নেতার জেলযাত্রা।জামিনের শর্তে কী জানালেন দুই নেতা?জামিনের শুনানিতে আশুতোষ ও সৌরভের বক্তব্য ছিল, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা।প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনে চলার এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।তিন দিনের অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদন খারিজসূত্রের খবর, আশুতোষ ও সৌরভকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বুধবার বিকেলে জামিনের নির্দেশ দেওয়ার পর রাতের দিকে তাঁদের তিহাড় জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফলে প্রায় এক সপ্তাহের বন্দিজীবনের অবসান ঘটে দুই নেতার।জেল থেকে বেরিয়েও অবস্থান বদল নয়জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি আশুতোষ ও সৌরভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দুই নেতাকে স্লোগান দিতেও দেখা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের মুখে শোনা যায়, ভারতমাতা কি জয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ-এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান।অন্যদিকে, জেলজীবন নিয়ে আশুতোষের মন্তব্যও নজর কেড়েছে। মুক্তির পর তিনি জানিয়েছেন, তিহাড় জেলের খাবার বেশ ভালো। তবে জেলবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা জামিনের শর্তকোনও কিছুই যে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিতে প্রভাব ফেলেনি, তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগানে সেই বার্তাই স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, জামিনে মুক্তি পেলেও ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতার আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। একদিকে জামিনের শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানএই দুইয়ের মধ্যে আগামী দিনে তাঁরা কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal